দায়িত্বগ্রহণের পর পরই চীনা পণ্য আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতেও শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে চাহিদা বেড়েছে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের। এতে ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। খবর রয়টার্স।
গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। প্রতি আউন্সের দাম পৌঁছে ২ হাজার ৮৫৫ ডলার ৩২ সেন্টে। একই দিন ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৫৮ ডলার ১২ সেন্টে লেনদেন হয়েছিল ধাতুটি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৪ ডলার ৬০ সেন্ট।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংস্থা ওয়ান্ডার এশিয়া প্যাসিফিকের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ‘বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এতে ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), কয়লা, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কৃষি সরঞ্জামের ওপর শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে চীন। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহার ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এটি ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। দেশটি আরো জানিয়েছে, তারা মার্কিন গাড়ি আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করবে। এছাড়া দেশটিতে দুষ্প্রাপ্য ধাতু রফতানি নিয়ন্ত্রণ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ করে প্রধান দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দেশ দুটি একে অন্যের পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। গত কয়েক বছরের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির কারণে তারা এরই মধ্যে ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে আরো অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শিগগিরই কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নন। এতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। ফলে ধাতুটির দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংস্থা টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, ‘স্বর্ণের দামে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে ৩ হাজার ডলার। বাণিজ্যযুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করলে রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়াতে পারে চীন।’
অন্যদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের তিন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য শুল্ক পরিকল্পনা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে সুদহার কমানোর গতি কমানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তাদের একজন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণে চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হতে যাওয়া এডিপির কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
স্পিভাক আরো বলেন, ‘স্বর্ণের উচ্চ চাহিদা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতার কারণে অন্যান্য ধাতুর দাম স্বর্ণের তুলনায় কম বাড়ছে।’
স্পট মার্কেটে রৌপ্যের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩২ ডলার ২৬ সেন্টে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭০ ডলার ৯৫ সেন্টে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯৮৭ ডলার ৪৮ সেন্টে নেমে এসেছে।